নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) লিখিত প্রস্তাবনায় দাবি না জানালেও সংবাদপত্র শিল্পে বিদ্যমান অগ্রিম আয়কর (এআইটি) ও অগ্রিম কর বা অগ্রিম ভ্যাট (এটি) কমানোর আশ্বাস দিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। তিনি বলেন, ‘ট্যাক্স জিডিপি ও ট্যাক্স রেট বাড়াতে সচেতনতামূলক প্রচার করছে গণমাধ্যমগুলো। গণমাধ্যম আরো ভূমিকা রাখবে। আপনারা না বললেও আমরা এআইটি ও এটি কমানোর আশ্বাস দিচ্ছি।’
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, সংবাদপত্র শিল্পে বর্তমানে এআইটি ও এটি বা অগ্রিম ভ্যাট ৫ শতাংশ হারে বিদ্যমান।
রোববার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআরের সম্মেলন কক্ষে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
নোয়াবের সভাপতি এ কে আজাদ লিখিত প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। প্রস্তাবে তিনি নিউজপ্রিন্টের আমদানি শুল্ক ২ শতাংশ করা (বর্তমানে প্রযোজ্য ৫ শতাংশ), ভ্যাট ১৫ শতাংশের স্থলে ৫ শতাংশ এবং সংবাদপত্র শিল্পকে সেবামূলক শিল্প হিসেবে বিবেচনা করে করপোরেট ট্যাক্স (বর্তমানে ২৭.৫ শতাংশ) সর্বনিম্ন নির্ধারণ অথবা অবলোপন করার দাবি জানান।
তিনি বলেন, আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশ হলেও ভ্যাট, অগ্রিম আয়কর, পরিবহন বীমা ইত্যাদিসহ ল্যাণ্ডেড ব্যয় প্রায় ৩০ শতাংশে দাঁড়ায়।
নোয়াবের দাবি, বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল মাধ্যমের বহিঃপ্রকাশ ও অন্য মাধ্যমের অপ্রতিরোধ্য অগ্রগতি সংবাদপত্র শিল্পকে বিরূপ পরিস্থিতির মুখোমুখি করেছে। এ বাস্তবতায় সংবাদপত্র শিল্প রক্ষায় শুল্ক ও করনীতিতে সংস্কার প্রয়োজন।
এ কে আজাদ বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান অবস্থায় বিশেষত ডলারের ক্রমবর্ধমান বিনিময় হার এ শিল্পকে নতজানু করে ফেলেছে। বিগত কয়েক বছরে সংবাদপত্র শিল্প বিকাশে সরকার আমাদের কোনো প্রস্তাবনা আমলে নেয়নি। এ বছরের বাজেটে আমাদের প্রস্তাবগুলো বিবেচনায় নেয়া হোক। সংবাদপত্র সেবা শিল্প হিসেবে সরকার কর্তৃক ঘোষিত। সাংবাদিক বাদেও মুদ্রণ, বিপণন, বিতরণ ও বিজ্ঞাপন ইত্যাদিসহ অগণিত মানুষ এ শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। এর অব্যাহত অগ্রগতি ও পরিচালনার জন্য শুল্ক ও কর নীতি প্রয়োগের বিপুল সংস্কার তথা সহায়ক ভূমিকা প্রয়োজন।
নোয়াবের সাবেক সভাপতি ও প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, ‘গত ১৬ বছর সংবাদপত্র হিসেবে আমরা কোনো ধরনের সহযোগিতা পেতাম না। বরং একপেশে সিদ্ধান্ত সরকার দিতেন। অনেক পত্রিকায় সরকারি বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সংবাদপত্রে সাড়ে ২৭ শতাংশ করপোরেট কর একটা বড় ধরনের জুলুম। এটা না রাখলে কী হয়। আর যদি রাখেন একটা যৌক্তিক পর্যায়ে রাখেন। বর্তমানে অরাজনৈতিক সরকারের সময় সুবিচার আশা করছি।
আলোচনায় ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ বলেন, নিউজপ্রিন্টের দাম ওঠানামা করে। করারোপের ক্ষেত্রে সেটিও বিবেচনা করা দরকার।
এনবিআরের সদস্য (ভ্যাট নীতি) ড. আব্দুর রউফ বলেন, ‘ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর অ্যাসোসিয়েশন বা সমিতি রয়েছে। অনেকক্ষেত্রে তারা করজাল বাড়ানোর ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ান।’
সভাপতির বক্তব্যে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘সবাইকে খুশি রেখে কিছু করা যায় কিনা আমরা বিবেচনা করব। তবে রাষ্ট্রের উপকার হবে সে সিদ্ধান্তই আমরা নেব। এতে যদি ব্যক্তি বা এনবিআরেরও ক্ষতি হয়, হোক। সবক্ষেত্রে নৈতিকতা দিয়ে হবে না আইনেরও প্রয়োগ করতে হবে।’ আলোচনায় এনবিআরের সদস্য (আয়কর নীতি) এ কে এম বদিউল আলমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।